ব্লগ·২৭ আগস্ট, ২০২৬·7 মিনিট
এফ-কমার্স থেকে নিজের ওয়েবসাইট: কখন এবং কেন যাবেন
আপনার ফেসবুক পেজে বিক্রি ভালোই চলছে। তাহলে ওয়েবসাইটের কথা ভাববেন কেন? এই প্রশ্নটা বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটা এফ-কমার্স উদ্যোক্তা একসময় নিজেকে করেন। সৎ উত্তরটা হলো: সবার এখনই ওয়েবসাইট দরকার নেই, কিন্তু একটা নির্দিষ্ট পর্যায়ের পরে শুধু পেজ দিয়ে চলা মানে প্রতিদিন টাকা আর সময় হারানো। কখন সেই পর্যায়ে পৌঁছেছেন, সেটাই এই লেখার বিষয়।
শুধু ফেসবুক পেজের ৫টা লুকানো খরচ
১. একই প্রশ্নের উত্তর দিনে ৫০ বার
"দাম কত?", "কী কী কালার আছে?", "ডেলিভারি চার্জ কত?", পোস্টে সব লেখা থাকলেও মানুষ ইনবক্সেই জিজ্ঞেস করবে। দিনে ২-৩ ঘণ্টা শুধু এই উত্তর দিতেই চলে যায়। এটা আপনার সময়ের দাম।
২. পুরনো প্রোডাক্ট হারিয়ে যায়
তিন সপ্তাহ আগের পোস্টের প্রোডাক্টটা কেউ আর খুঁজে পায় না। আপনার ১০০টা প্রোডাক্ট থাকলেও কাস্টমার দেখে সর্বশেষ ৫-৬টা পোস্ট। বাকি ৯৪টা প্রোডাক্ট কার্যত অদৃশ্য।
৩. পেজ রেস্ট্রিকশনের ঝুঁকি
একটা রিপোর্ট বা ফেসবুকের অ্যালগরিদমের ভুলে পেজ রেস্ট্রিক্টেড হলে আপনার পুরো ব্যবসা রাতারাতি বন্ধ। যাদের সাথে হয়েছে, তারা জানেন এই অনুভূতিটা কেমন। নিজের স্টোর মানে নিজের ঠিকানা, কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।
৪. বিশ্বাসযোগ্যতার ঘাটতি
নতুন কাস্টমার অ্যাডভান্স পেমেন্ট দিতে ভয় পায়, কারণ শুধু একটা ফেসবুক পেজ দেখে বোঝা যায় না ব্যবসাটা আসল কি না। নিজের স্টোর লিংক (বিশেষ করে নিজের ডোমেইন) থাকলে সেই ভরসাটা তৈরি হয়। পেজে সরকারি DBID নম্বর থাকলেও কাস্টমার বোঝে ব্যবসাটা নিবন্ধিত, কিভাবে নেবেন তা আছে ট্রেড লাইসেন্স আর DBID গাইডে।
৫. বুস্টের টাকার অপচয়
বুস্ট করা পোস্ট দেখে আগ্রহী কাস্টমার ইনবক্সে এসে উত্তর না পেয়ে চলে যায়। স্টোর লিংক থাকলে সে নিজেই ঘুরে দেখে অর্ডার করতে পারতো, আপনি ঘুমিয়ে থাকলেও।
কখন ওয়েবসাইট/স্টোরের সময় হয়েছে?
নিচের যেকোনো ২টা মিলে গেলেই বুঝবেন সময় হয়েছে:
- দিনে ৫টার বেশি অর্ডার আসছে
- ২০টার বেশি প্রোডাক্ট আছে
- ইনবক্সের উত্তর দিতে দিনে ১ ঘণ্টার বেশি যাচ্ছে
- মাসে ৫,০০০ টাকার বেশি বুস্টে খরচ করছেন
- কোন অর্ডার কনফার্ম হলো, কোনটা শিপ হলো, হিসাব গুলিয়ে যাচ্ছে
কিন্তু ওয়েবসাইট মানেই কি ২০-৫০ হাজার টাকা?
না, এই ধারণাটাই পুরনো। এজেন্সি দিয়ে কাস্টম ওয়েবসাইট বানানো এখনো ২০ হাজার থেকে লাখ টাকা, আর Shopify মানে মাসে ৪-৮ হাজার টাকা (ডলারে)। কিন্তু আপনার আসলে দরকার খুব সাধারণ একটা জিনিস: প্রোডাক্টগুলো সুন্দর করে সাজানো একটা পেজ, যেখান থেকে কাস্টমার এক ক্লিকে WhatsApp-এ অর্ডার করতে পারে।
Kommercly ঠিক এটাই করে। ফোন থেকে ছবি, নাম আর দাম দিয়ে কয়েকটা ধাপে ফ্রি স্টোর হয়, WhatsApp চেকআউটসহ। কোনো ডেভেলপার লাগে না, কোনো মাসিক ডলার খরচ নেই। ফোন থেকে বানানোর ধাপ আছে সেটআপ গাইডে। ফ্রি ওয়েবসাইটের সব উপায় পাশাপাশি দেখতে পড়ুন ফেসবুক পেজের জন্য ফ্রি ওয়েবসাইট (ইংরেজিতে)।
গুরুত্বপূর্ণ কথা: পেজ ছাড়বেন না
ওয়েবসাইট মানে ফেসবুক ছেড়ে দেওয়া না, বরং দুটো মিলে একটা সিস্টেম: ফেসবুক/টিকটক হলো মার্কেটিং, স্টোর হলো দোকান, WhatsApp হলো ক্যাশ কাউন্টার। পোস্টে আর বুস্টের কমেন্টে স্টোরের লিংক দিন। কাস্টমার লিংকে গিয়ে সব প্রোডাক্ট দেখবে, আর অর্ডার আসবে আপনার WhatsApp-এই, গুছানো অবস্থায়।
হিসাবটা সহজ: দিনে ২ ঘণ্টা ইনবক্স-উত্তরের সময় বাঁচলে মাসে ৬০ ঘণ্টা, সেই সময়ে আপনি নতুন প্রোডাক্ট সোর্স করতে পারবেন, মার্কেটিং করতে পারবেন, ব্যবসা বড় করতে পারবেন। ফ্রি স্টোর দিয়ে শুরু করে দেখুন, খরচ শূন্য, ঝুঁকি শূন্য।
ফোন থেকেই অনলাইন স্টোর, অর্ডার আসবে WhatsApp-এ
ফ্রি প্ল্যান, কোনো কার্ড বা কোডিং লাগবে না। ফোনে ছবি তুলে প্রথম প্রোডাক্ট যোগ করুন।
ফ্রি স্টোর বানানKommercly দিয়ে বানানো লাইভ স্টোর দেখুন:Dobby (opens in a new tab)Stellify (opens in a new tab)
