ব্লগ·১৫ অক্টোবর, ২০২৬·10 মিনিট
হোমমেড খাবারের ব্যবসা: লাইসেন্স, দাম আর ডেলিভারি
সংক্ষেপে উত্তর: হোমমেড খাবারের ব্যবসা শুরু করা যায় অল্প টাকায়, কিন্তু তিনটা জিনিস আগে ঠিক করুন। এক, জুলাই ২০২৬-এর নতুন নিয়মে খাদ্য ব্যবসায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন লাগবে বলে খবর এসেছে, আপনার ক্ষেত্রে কী লাগবে তা BFSA-র কাছ থেকে নিশ্চিত হোন। দুই, কোন খাবার কুরিয়ারে যায় আর কোনটা নিজে পৌঁছাতে হয়। তিন, দাম ঠিক করার সময় জার, প্যাকেট আর কুরিয়ারের খরচ ধরা। আর লেবেলে বা পোস্টে "খাঁটি", "অর্গানিক" বা "ঘরে তৈরি" লেখার আগে নিচের দাবির নিয়মটা পড়ে নিন।
এই লেখার আইনের তথ্য BFSA-র ওয়েবসাইটে দেওয়া গেজেট, দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি আর বাংলা) আর বাংলাদেশ মনিটর থেকে, কুরিয়ারের তথ্য স্টেডফাস্ট আর পাঠাওয়ের নিজেদের পাতা থেকে, সব ২ অক্টোবর ২০২৬-এ দেখা। যেখানে আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি, সেখানে সেটা লিখে দিয়েছি। এটা আইনি পরামর্শ না।
ঘরে বানানো খাবার অনলাইনে বিক্রি করতে কি রেজিস্ট্রেশন লাগে?
খবর অনুযায়ী, নতুন নিয়মে প্রায় সব খাদ্য ব্যবসাকেই নিবন্ধন বা লাইসেন্স নিতে হবে। খবরটা আগে দেখে নিই, তারপর কোনটা নিশ্চিত না সেটা।
খবরে কী বলা হয়েছে
দ্য ডেইলি স্টারের ২২ জুলাই ২০২৬-এর খবর ("All food businesses now need safety registration", আর বাংলা সংস্করণে "সব খাবারের ব্যবসায় লাগবে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন") অনুযায়ী:
- নিবন্ধন ও লাইসেন্সের নতুন প্রবিধানমালা ১৬ জুলাই ২০২৬ সরকারি গেজেটে প্রকাশ হয়েছে।
- রাস্তার পাশে পিঠা-পুরি বিক্রেতা থেকে বড় কারখানা পর্যন্ত, খাদ্য ব্যবসার সবাইকে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (BFSA) নিবন্ধন বা লাইসেন্স নিতে হবে।
- বেশিরভাগ ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাদ্য ব্যবসার জন্য শুধু নিবন্ধনই যথেষ্ট। খবরে নিবন্ধনের উদাহরণ হিসেবে আছে রেস্তোরাঁ, বেকারি, পেস্ট্রি শপ, ক্যাটারিং, মোড়কজাত খাবারের উৎপাদক, মিষ্টির দোকান আর দুগ্ধজাত পণ্যের উৎপাদক।
- বিশেষ ধরনের পণ্যের জন্য লাইসেন্স লাগবে। খবরে আছে শিশুখাদ্য, ফর্টিফায়েড খাবার, অর্গানিক পণ্য, জিনগত পরিবর্তন করা খাবার আর ভোজ্যতেলের বাণিজ্যিক ব্যবসার কথা।
- নিবন্ধনের ফি ৳১,০০০ থেকে শুরু, নবায়ন ৳৫০০। নিবন্ধন বা লাইসেন্সের মেয়াদ তিন বছর।
- BFSA-র একজন সদস্য বলেছেন, তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য শিল্প পর্যায়ের উৎপাদন আর যারা বড় পরিসরে উৎপাদন করে।
বাংলাদেশ মনিটরের ২৫ জুলাই ২০২৬-এর খবরেও একই কথা: নিবন্ধন আর লাইসেন্স দুটোরই মেয়াদ তিন বছর।
যা আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি
- প্রবিধানমালার মূল লেখা। ২ অক্টোবর ২০২৬-এ BFSA-র ওয়েবসাইটের (bfsa.gov.bd) আইন ও প্রবিধানমালার তালিকায় এটা আমরা পাইনি।
- ঘরের রান্নাঘর থেকে অনলাইনে বিক্রি করা ছোট সেলার ঠিক কোন ভাগে পড়েন। খবরে এটা আলাদা করে বলা নেই।
- কোথায় আর কিভাবে আবেদন করতে হবে, কবের মধ্যে করতে হবে, না করলে কী শাস্তি। খাদ্য নিয়মের খবরের সাইট ChemLinked (২০ জুলাই ২০২৬) লিখেছে, প্রবিধানমালা জারির দিন থেকেই কার্যকর। কোনো সময়সীমার কথা আমরা পাইনি।
এখন কী করবেন
- BFSA-র সাথে যোগাযোগ করুন। ওয়েবসাইটে বিভাগ আর জেলা অফিসের তথ্য আর কল সেন্টারের লিংক আছে। জিজ্ঞেস করুন: "আমি ঘরে [আপনার খাবার] বানিয়ে অনলাইনে বিক্রি করি, আমার কি নিবন্ধন লাগবে, আর কিভাবে আবেদন করবো?" উত্তরটা, তারিখ আর যার সাথে কথা হলো তার নাম লিখে রাখুন।
- পেজে বা প্যাকেটে "অর্গানিক" শব্দ ব্যবহার করবেন না, যদি না সার্টিফিকেট থাকে। খবর অনুযায়ী অর্গানিক পণ্য লাইসেন্সের আওতায় পড়ে।
- অনলাইন ব্যবসার সাধারণ কাগজ, যেমন DBID আর ট্রেড লাইসেন্স, আলাদা জিনিস। কোনটা কখন লাগে, আছে আমাদের ট্রেড লাইসেন্স আর DBID গাইডে (ইংরেজিতে)।
আরেকটা জিনিস: দ্য ডেইলি স্টারের ১০ অক্টোবর ২০২৩-এর খবর অনুযায়ী BSTI-র বাধ্যতামূলক সার্টিফিকেশনের তালিকায় মিষ্টি, চাটনি, ডেকোরেটেড কেক আর ছানা যোগ হয়েছিল। এই তালিকা সময়ে সময়ে বদলায়। আপনার পণ্য এখন তালিকায় আছে কিনা, bsti.gov.bd-তে বা BSTI অফিসে জেনে নিন।
কোন খাবার দিয়ে শুরু করা সহজ?
যে খাবার কয়েক দিন ঠিক থাকে, ভাঙে না, আর গলে যায় না, সেটা দিয়ে শুরু করা সবচেয়ে সহজ। তাতে কুরিয়ারে সারা দেশে পাঠাতে পারেন, আর এক দিনে অনেক অর্ডার একসাথে বানাতে পারেন।
| খাবার | কিভাবে পাঠাবেন | ঝুঁকি |
|---|---|---|
| মশলা গুঁড়া, শুকনো নাস্তা (নিমকি, চানাচুর, কুকিজ) | কুরিয়ারে, সারা দেশে | কম। ভালো করে সিল করুন, যেন বাতাস না ঢোকে। |
| আচার, ঘি, মধু | কুরিয়ারে, ভালো প্যাকিংয়ে | তরল বা তেল লিক হতে পারে। স্টেডফাস্ট তরলের ক্ষতিপূরণ দেয় না। |
| কেক, পেস্ট্রি, মিষ্টি | নিজে বা রাইডার দিয়ে, একই দিনে | চাপ লেগে নষ্ট হয়, গরমে গলে যায়। |
| দই, ফ্রোজেন সমুচা, রোল, পরোটা | নিজে বা রাইডার দিয়ে, কাছের এলাকায় | ঠান্ডা না থাকলে নষ্ট হয়। পাঠাও ফ্রিজের খাবার নেয় না। |
| রান্না করা খাবার, দুপুরের টিফিন | নিজে, নির্দিষ্ট সময়ে | কয়েক ঘণ্টার মধ্যে খেতে হয়। |
কোন খাবার কয় দিন ঠিক থাকে, সেটা রেসিপি, উপকরণ আর রাখার নিয়মের ওপর নির্ভর করে, অন্যের পেজে লেখা দিন দেখে ঠিক করবেন না। খাবার নষ্ট হলেও সবসময় গন্ধে বা স্বাদে বোঝা যায় না। তাই নিশ্চিত না হলে মেয়াদ কম ধরুন, আর দরকারে একজন খাদ্য প্রযুক্তিবিদের পরামর্শ নিন।
খাবার ছাড়া আর কোন প্রোডাক্ট ঘরে বসে বিক্রি করা যায়, খরচ আর ঝুঁকিসহ, দেখুন ঘরে বসে অনলাইন ব্যবসার আইডিয়ার টেবিলে।
কেক, আচার, মধু কি কুরিয়ারে পাঠানো যায়?
আচার আর মধু যায়, কেক সাধারণত না। কুরিয়ারের নিজেদের নিয়ম দেখুন:
- স্টেডফাস্ট: শর্তাবলিতে লেখা, তারা ভাঙে এমন আর তরল জিনিসের ক্ষতির জন্য টাকা দেয় না। উদাহরণে সরাসরি মধু, তেল আর কোমল পানীয়ের নাম আছে। শর্তে আরও আছে, প্যাকিং ঠিক না হলে ক্ষতির দায় তাদের না, আর সব পার্সেল CCTV-র সামনে প্যাক করতে হবে।
- পাঠাও: সাহায্য পাতায় (হালনাগাদ ১৭ নভেম্বর ২০২৪) লেখা, তারা ফ্রিজে বা বিশেষ তাপমাত্রায় রাখতে হয় এমন পচনশীল খাবার আর খুব সহজে ভাঙে এমন জিনিস ডেলিভারি দেয় না।
- রেডএক্স: তাদের নিষিদ্ধ জিনিসের তালিকা আমরা ওয়েবসাইটে খুঁজে পাইনি। পাঠানোর আগে ফোন করে জিজ্ঞেস করুন।
আচার, ঘি আর মধু পাঠানোর জন্য প্যাকিং:
- কাচের বয়ামের বদলে শক্ত ঢাকনার ফুড-গ্রেড প্লাস্টিক জার নিন।
- ঢাকনার নিচে একটা পাতলা পলি দিয়ে তারপর ঢাকনা আটকান, ঢাকনার চারপাশে টেপ দিন।
- জারটা আলাদা জিপ ব্যাগ বা পলিতে ভরুন, যেন লিক হলেও বাইরে না আসে।
- বাবল র্যাপ দিয়ে মুড়ে শক্ত বক্সে ভরুন, ফাঁকা জায়গা কাগজ দিয়ে ভরে দিন।
- প্যাকিংয়ের ভিডিও করে রাখুন। পরে অভিযোগ এলে কাজে লাগবে।
কেক, দই আর ফ্রোজেন খাবারের জন্য শুরুতে নিজের এলাকায় ডেলিভারি দিন, নিজে বা পরিচিত রাইডার দিয়ে, একই দিনে। এলাকা ছোট রাখলে খাবার ঠিক অবস্থায় পৌঁছায়, আর ফেরতের ঝুঁকিও কম।
প্রি-অর্ডার নিয়ে কিভাবে কাজ করবেন?
খাবারের ব্যবসায় প্রি-অর্ডার সবচেয়ে কাজের নিয়ম। আগে অর্ডার নিয়ে তারপর বানালে নষ্ট কম হয়, বাজার একবারে করা যায়, আর এক চুলায় অনেক অর্ডার একসাথে রান্না হয়।
- রান্নার দিন ঠিক করুন। যেমন সপ্তাহে দুই দিন, রবি আর বুধবার। পেজে লিখে দিন।
- অর্ডারের শেষ সময় দিন। যেমন "বুধবারের অর্ডার মঙ্গলবার রাত ১০টার মধ্যে"।
- কাস্টম কেকে অ্যাডভান্স নিন। নাম লেখা কেক অন্য কাউকে বিক্রি করা যায় না, তাই অন্তত উপকরণের টাকাটা আগে নিন।
- ডেলিভারির আগের দিন কনফার্ম করুন। কাস্টমারকে একটা মেসেজ দিন, সময় আর ঠিকানা মিলিয়ে নিন।
প্রি-অর্ডার নেওয়ার একটা মেসেজ, নিজের মতো বদলে নিন:
আসসালামু আলাইকুম। এই সপ্তাহের আমের আচারের প্রি-অর্ডার চলছে। ৪০০ গ্রাম জার ৳৪৫০। অর্ডার নেবো মঙ্গলবার রাত ১০টা পর্যন্ত, ডেলিভারি শুক্রবার থেকে। ঢাকার বাইরে হলে ডেলিভারি চার্জটা বিকাশে আগে দিতে হবে। অর্ডার করতে নাম, নম্বর আর পুরো ঠিকানা পাঠান।
মেনু বড় হলে প্রতিটা অর্ডার ইনবক্সে লেখা কঠিন হয়ে যায়। Kommercly-তে (আমরা বানাই) কোনো খাবারকে Pre-order হিসেবে রাখা যায়, আর ডেলিভারি এলাকা শুধু যেখানে আপনি তাজা পৌঁছাতে পারেন সেখানেই রাখা যায়, যেমন শুধু ঢাকার ভেতরে। কাস্টমার অর্ডার করলে খাবার, এলাকা, ঠিকানা আর মোট টাকা লেখা অর্ডারটা আপনার WhatsApp-এ আসে। এটা টাকা নেয় না আর কুরিয়ার বুক করে না, সেটা আপনাকেই করতে হয়। অফিসে বা নির্দিষ্ট কয়েকজনকে প্রতিদিন টিফিন দিলে এটা লাগবে না, একটা WhatsApp গ্রুপে মেনু দিলেই চলে।
খাবারের দাম কিভাবে ঠিক করবেন?
শুধু উপকরণের দাম ধরলে লস হবে। জার, লেবেল, গ্যাস, প্যাকিং আর কুরিয়ার সব ধরুন। নিচের হিসাবটা একটা উদাহরণ, ৪০০ গ্রামের এক জার আমের আচার। নিজের খরচ বসিয়ে আবার করুন।
| খরচ (উদাহরণ) | টাকা |
|---|---|
| উপকরণ: আম, তেল, মশলা | ৳১৮০ |
| প্লাস্টিক জার আর ঢাকনা | ৳২৫ |
| লেবেল আর সিল | ৳১০ |
| গ্যাস আর বিদ্যুৎ | ৳১৫ |
| প্যাকিং: পলি, বাবল র্যাপ, বক্স | ৳২০ |
| এক জারের মোট খরচ | ৳২৫০ |
প্যাকিংসহ এই জারের ওজন আধা কেজির বেশি হয়, তাই কুরিয়ারে ১ কেজির চার্জ লাগে। স্টেডফাস্টের রেট ক্যালকুলেটরে (১ অক্টোবর ২০২৬) ১ কেজির পার্সেল ঢাকার ভেতরে ৳৭৫, ঢাকা থেকে বাইরের জেলায় ৳১৩৫। COD চার্জ ১%, কাস্টমারের দেওয়া টাকা থেকে ডেলিভারি চার্জ বাদ দিয়ে যা থাকে তার ওপর। ধরুন জারটা বিক্রি করছেন ৳৪৫০ টাকায়, আর ডেলিভারি চার্জ নিচ্ছেন ঢাকার ভেতরে ৳৮০, বাইরে ৳১৪০।
| হিসাব (উদাহরণ) | ঢাকার ভেতরে | ঢাকার বাইরে |
|---|---|---|
| কাস্টমার দিলো (দাম + ডেলিভারি) | ৳৫৩০ | ৳৫৯০ |
| কুরিয়ার চার্জ | ৳৭৫ | ৳১৩৫ |
| COD চার্জ (৳৪৫৫-এর ১%, প্রায়) | ৳৫ | ৳৫ |
| এক জারের খরচ | ৳২৫০ | ৳২৫০ |
| লাভ | ৳২০০ | ৳২০০ |
এবার দুটো ঝুঁকি যোগ করুন। এক, লিক হওয়া বা ভাঙা জার: স্টেডফাস্ট তরলের ক্ষতিপূরণ দেয় না, তাই সেই জারের পুরো খরচ আপনার। দুই, ফেরত পার্সেল: কাস্টমার না নিলে আচার আর নতুন হিসেবে বিক্রি করা ঠিক না, আর কুরিয়ার চার্জ যায়। ধরুন ১০টা জারের ১টা এভাবে নষ্ট হলো। তাহলে বাকি ৯টার লাভ থেকে সেই জারের খরচ আর কুরিয়ার চার্জ বাদ যায়। তাই ঢাকার বাইরের অর্ডারে ডেলিভারি চার্জ আগে নিন। কিভাবে, তা আছে আমাদের COD বনাম বিকাশ অ্যাডভান্স গাইডে (ইংরেজিতে), আর তিন কুরিয়ারের পুরো চার্জ আছে কুরিয়ার চার্জ গাইডে।
প্যাকেট আর লেবেলে কি লিখতে হয়?
BFSA-র ওয়েবসাইটের আইনের তালিকায় নিরাপদ খাদ্য (মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং) প্রবিধানমালা, ২০১৭ আছে। এটা মোড়কে ভরে বিক্রি করা খাবারের জন্য, যেমন বয়ামে আচার বা প্যাকেটে নিমকি। সেই প্রবিধানমালায় দেশে বানানো খাবারের লেবেলের তথ্য বাংলায় লিখতে বলা আছে, আর লেবেলে এগুলো পরিষ্কার করে থাকতে হবে:
- প্রস্তুতকারী বা মোড়কজাতকারীর নাম আর ঠিকানা
- উপাদানের নাম আর ধরন
- ব্যাচ, কোড বা লট নম্বর
- নিট ওজন, যেমন "৪০০ গ্রাম"
- উৎপাদনের তারিখ আর মোড়কজাত করার তারিখ
- মেয়াদ শেষের তারিখ, আর ভালো থাকার শেষ তারিখ (Best Before)
- পুষ্টি তথ্য আর খাদ্য সংযোজন দ্রব্য। মশলা বা চিনির মতো কাঁচামালের পুষ্টি তথ্যে ছাড় আছে।
- নির্দেশনা ছাড়া ঠিকভাবে খাওয়া বা রাখা না গেলে, ব্যবহারের নির্দেশনা
খুব ছোট মোড়কের জন্য কিছু ছাড় আছে, আর ছোট ঘরোয়া সেলারের জন্য আলাদা কিছু আছে কিনা, তা প্রবিধানমালায় আমরা পাইনি। লেবেলিংয়ের নতুন একটা প্রবিধানমালা, ২০২৬, জানুয়ারি ২০২৬-এ খসড়া হিসেবে মতামতের জন্য দেওয়া হয়েছিল। ২ অক্টোবর ২০২৬-এ চূড়ান্ত সংস্করণ সেখানে আমরা দেখিনি। এর বাইরে দুটো জিনিস লেবেলে রাখা ভালো, যদিও উপরের তালিকায় আলাদা করে নেই: বাদাম, দুধ, ডিম বা গমের মতো অ্যালার্জির উপাদান, আর "খোলার পর ফ্রিজে রাখুন" এর মতো রাখার নিয়ম।
লেবেলে বা পোস্টে কী দাবি করা যাবে না
নিরাপদ খাদ্য (বিজ্ঞাপন ও দাবি) প্রবিধানমালা, ২০২৫ গেজেট হয়েছে ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫। গেজেটেই লেখা, প্রকাশের ৬ মাস পর কার্যকর হবে, মানে জুন ২০২৬ থেকে এটা চালু। BFSA-র ওয়েবসাইটে দেওয়া গেজেট থেকে কয়েকটা নিয়ম, যা খাবারের সেলারের কাজে লাগে:
- খাবার কোনো রোগ প্রতিরোধ, উপশম বা চিকিৎসা করে, এমন দাবি নিষিদ্ধ।
- স্বাস্থ্য উপকারের কোনো দাবি করতে হলে আগে BFSA-র কাছে আবেদন করতে হয়।
- প্রমাণ করা যায় না, এমন কোনো দাবি করা যাবে না।
- ভোক্তার জন্য বিভ্রান্তিকর দাবি করা যাবে না। উদাহরণ হিসেবে গেজেটে লেখা আছে "ঘরে তৈরি" আর "বাড়িতে রান্না করা"।
- "প্রাকৃতিক", "তাজা", "খাঁটি", "বিশুদ্ধ", "আসল", "সেরা", "নির্ভেজাল", "ঐতিহ্যবাহী" এর মতো শব্দ নিয়মের শর্ত না মেনে ব্র্যান্ড বা পণ্যের নাম হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। নামে এমন শব্দ থাকলে লেবেলে লিখতে হয় যে শব্দটা শুধু নাম, পণ্যের গুণের সাথে এর সম্পর্ক নেই।
- হালালের মতো ধর্মীয় দাবি করতে হলে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষের সনদ লাগবে।
- ডাক্তার, পুষ্টিবিদ বা খাদ্য বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞাপনে পণ্যের প্রচার করতে পারবেন না, আর লেবেলে "ডাক্তারের অনুমোদিত" ধরনের দাবিও নিষিদ্ধ।
তাই "এই মধু খেলে ডায়াবেটিস সারে", "১০০% অর্গানিক ঘি" বা "ডাক্তারের পরামর্শে খান" এমন কথা পোস্টে বা লেবেলে লিখবেন না। বিশেষণের বদলে তথ্য দিন: উপাদানের তালিকা, ওজন, বানানোর তারিখ, আসল খাবারের ছবি। "ঘরে তৈরি" কথাটা নিয়ে সবচেয়ে বেশি সাবধান থাকুন, কারণ হোমমেড খাবারের পেজে এটাই সবার আগে লেখা হয়। আপনার ক্ষেত্রে এটা লেখা যাবে কিনা, BFSA-র কাছ থেকে জেনে নিন।
মেনু আর অর্ডার কিভাবে নেবেন?
- একটা পরিষ্কার মেনু বানান। প্রতিটা খাবারের নাম, ওজন বা পিস, দাম, আর কোন দিন পাওয়া যায়। আসল খাবারের ছবি দিন, ইন্টারনেটের ছবি না।
- ডেলিভারির নিয়ম লিখে দিন। কোন এলাকায় যান, চার্জ কত, কোন খাবার কুরিয়ারে যায় না।
- অর্ডারে সব তথ্য একবারে নিন। নাম, নম্বর, পুরো ঠিকানা, খাবার, পরিমাণ, ডেলিভারির দিন।
- প্রতিটা অর্ডার একটা খাতায় বা শীটে লিখুন। রান্নার দিনের আগে মোট কত কেজি বানাতে হবে, সেটা এখান থেকেই বের হয়।
- ডেলিভারির পর ফিডব্যাক নিন। খাবার কেমন লাগলো, ঠিক অবস্থায় পৌঁছেছিল কিনা। আসল কাস্টমারের আসল রিভিউ আপনার সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন।
খাবারের ছবি তোলার নিয়ম, যেমন আসল পরিমাণ আর প্যাকেট দেখানো, আছে ফোনে প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফির গাইডে (ইংরেজিতে)।
পেজ খোলা, দাম ঠিক করা আর প্রথম অর্ডার পাওয়ার সাধারণ ধাপগুলো আছে অনলাইন ব্যবসা শুরুর ৭ ধাপে।
সংক্ষেপে প্রশ্ন-উত্তর
ঘরে বানানো খাবার অনলাইনে বিক্রি করতে কি লাইসেন্স লাগে?
দ্য ডেইলি স্টারের ২২ জুলাই ২০২৬-এর খবর বলছে, ১৬ জুলাই গেজেট হওয়া নতুন প্রবিধানমালায় খাদ্য ব্যবসার সবাইকে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (BFSA) নিবন্ধন বা লাইসেন্স নিতে হবে, আর বেশিরভাগ ছোট ব্যবসার জন্য নিবন্ধনই যথেষ্ট। ঘরের রান্নাঘর থেকে অনলাইনে বিক্রির কথা খবরে আলাদা করে নেই। তাই আপনার ক্ষেত্রে কী লাগবে, BFSA-র কাছ থেকে নিশ্চিত হোন।
BFSA নিবন্ধনের ফি কত?
দ্য ডেইলি স্টারের খবর অনুযায়ী নিবন্ধনের ফি শুরু ৳১,০০০ থেকে, নবায়ন ৳৫০০, আর নিবন্ধন বা লাইসেন্সের মেয়াদ তিন বছর। এগুলো খবরের তথ্য। ২ অক্টোবর ২০২৬-এ আমরা BFSA-র ওয়েবসাইটের আইনের তালিকায় প্রবিধানমালাটা পাইনি। আবেদনের আগে BFSA-র কাছ থেকে চূড়ান্ত ফি আর নিয়ম জেনে নিন।
মধু বা আচার কি কুরিয়ারে পাঠানো যায়?
পাঠানো যায়, তবে ঝুঁকি আপনার। স্টেডফাস্টের শর্তে লেখা আছে, তারা ভাঙে এমন বা তরল জিনিসের ক্ষতিপূরণ দেয় না, আর উদাহরণে মধু আর তেলের নাম আছে। তাই কাচের বয়ামের বদলে শক্ত ঢাকনার ফুড-গ্রেড প্লাস্টিক জার নিন, ঢাকনায় টেপ দিন, পলিতে মুড়ে বক্সে ভরুন। কুরিয়ারকে আগে জানিয়ে দিন।
কেক বা ফ্রোজেন খাবার কিভাবে ডেলিভারি দেবো?
পাঠাওয়ের সাহায্য পাতায় লেখা, তারা ফ্রিজে রাখতে হয় এমন পচনশীল খাবার ডেলিভারি দেয় না। কেক, দই, ফ্রোজেন সমুচা বা রোলের মতো খাবার তাই সাধারণ কুরিয়ারের জন্য না। নিজে বা পরিচিত রাইডার দিয়ে কাছের এলাকায় একই দিনে পৌঁছে দিন, আর শুরুতে ডেলিভারি এলাকা ছোট রাখুন।
খাবারের প্যাকেটে কি লিখতে হয়?
BFSA-র ওয়েবসাইটে মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং প্রবিধানমালা, ২০১৭ আছে। তাতে লেবেলের তথ্য বাংলায় লিখতে বলা আছে, আর লেবেলে থাকতে হবে প্রস্তুতকারীর নাম-ঠিকানা, উপাদান, ব্যাচ বা লট নম্বর, নিট ওজন, উৎপাদনের তারিখ, মোড়কজাত করার তারিখ, মেয়াদ শেষের তারিখ, পুষ্টি তথ্য আর খাদ্য সংযোজন দ্রব্য। ২০২৬ সালের নতুন লেবেলিং প্রবিধানমালা জানুয়ারি ২০২৬-এ খসড়া ছিল, চূড়ান্ত হয়েছে কিনা আমরা দেখিনি।
মধুকে কি অর্গানিক বা রোগ সারায় বলে বিক্রি করা যায়?
না। নিরাপদ খাদ্য (বিজ্ঞাপন ও দাবি) প্রবিধানমালা, ২০২৫ গেজেট হয়েছে ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, কার্যকর হওয়ার কথা গেজেটের ৬ মাস পর, মানে জুন ২০২৬ থেকে। তাতে খাবার রোগ প্রতিরোধ, উপশম বা চিকিৎসা করে, এমন দাবি নিষিদ্ধ, আর স্বাস্থ্য উপকারের দাবি করতে হলে আগে BFSA-র কাছে আবেদন করতে হয়। আর নিবন্ধনের খবর বলছে অর্গানিক পণ্য লাইসেন্সের আওতায় পড়বে। তাই সার্টিফিকেট ছাড়া অর্গানিক লিখবেন না।
লেবেলে বা পোস্টে কি "ঘরে তৈরি" লেখা যায়?
সাবধান। বিজ্ঞাপন ও দাবি প্রবিধানমালা, ২০২৫-এ ভোক্তার জন্য বিভ্রান্তিকর দাবির উদাহরণ হিসেবেই "ঘরে তৈরি" আর "বাড়িতে রান্না করা" লেখা আছে। সত্যিই ঘরে বানালেও এই কথা লেবেলে বা বিজ্ঞাপনে লেখা যাবে কিনা, তা নিয়ম পড়ে পরিষ্কার না। লেখার আগে BFSA-র কাছে জেনে নিন।
তথ্যসূত্র (২ অক্টোবর ২০২৬-এ দেখা): দ্য ডেইলি স্টার, "All food businesses now need safety registration" (২২ জুলাই ২০২৬) আর বাংলা সংস্করণ "সব খাবারের ব্যবসায় লাগবে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন"; বাংলাদেশ মনিটর (২৫ জুলাই ২০২৬); ChemLinked (২০ জুলাই ২০২৬); বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, আইন ও প্রবিধানমালার পাতা (bfsa.gov.bd), সেখানে দেওয়া নিরাপদ খাদ্য (বিজ্ঞাপন ও দাবি) প্রবিধানমালা, ২০২৫-এর গেজেট (১৪ ডিসেম্বর ২০২৫) আর মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং প্রবিধানমালা, ২০১৭-এর গেজেট (৯ মে ২০১৭); দ্য ডেইলি স্টার, BSTI তালিকা নিয়ে খবর (১০ অক্টোবর ২০২৩); স্টেডফাস্টের শর্তাবলি; পাঠাওয়ের "What kind of products does Pathao Courier deliver?" পাতা। কুরিয়ার চার্জ আমাদের কুরিয়ার গাইড থেকে, ১ অক্টোবর ২০২৬-এ দেখা। এই লেখা আইনি পরামর্শ না।
ফোন থেকেই অনলাইন স্টোর, অর্ডার আসবে WhatsApp-এ
ফ্রি প্ল্যান, কোনো কার্ড বা কোডিং লাগবে না। ফোনে ছবি তুলে প্রথম প্রোডাক্ট যোগ করুন।
ফ্রি স্টোর বানানKommercly দিয়ে বানানো লাইভ স্টোর দেখুন:Dobby (opens in a new tab)Stellify (opens in a new tab)
