ব্লগ·১১ অক্টোবর, ২০২৬·9 মিনিট
অনলাইনে কাপড়ের ব্যবসা কিভাবে শুরু করবো (২০২৬)
ছোট উত্তর: অনলাইনে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করতে একটা ক্যাটাগরি বেছে নিন, পাইকারি বাজার থেকে ১০-২০ পিসের ছোট একটা লট কিনুন, প্রতিটার মাপসহ সাইজ চার্ট আর এক্সচেঞ্জ পলিসি ঠিক করুন, তারপর কুরিয়ার আর রিটার্নের খরচ ধরে দাম বসান। কাপড়ে লাভ-লোকসান ঠিক হয় সাইজ আর রঙের ভুলে কয়টা পার্সেল ফেরত আসে তার ওপর।
ফেসবুক পেজ খোলা, কুরিয়ার অ্যাকাউন্ট আর পেমেন্টের সাধারণ ধাপগুলো আছে আমাদের অনলাইন ব্যবসা শুরুর ৭টি ধাপ লেখায়। এখানে শুধু কাপড়ের ব্যবসার আলাদা বিষয়গুলো: কোথা থেকে কিনবেন, কী দিয়ে শুরু করবেন, সাইজ, ছবি আর দামের হিসাব। কুরিয়ার চার্জ ২ অক্টোবর ২০২৬-এ কুরিয়ারগুলোর নিজেদের পেজ থেকে নেওয়া। কেনা দাম আর লাভের সব হিসাব উদাহরণ, নিজের বাজারের দাম বসিয়ে নিন।
অনলাইনে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা লাগে?
অনলাইনে দোকান ভাড়া নেই, তাই শুরুর বেশিরভাগ টাকা যায় প্রথম লটের কাপড়ে। নিচে ১০ পিস কুর্তি দিয়ে শুরুর একটা উদাহরণ। দামগুলো আমাদের ধরে নেওয়া, বাজারের দাম নয়।
| খরচ (উদাহরণ) | হিসাব | টাকা |
|---|---|---|
| ১০ পিস কুর্তি | ১০ × ৳৪৫০ | ৳৪,৫০০ |
| প্যাকেট (পলি, ট্যাগ, টেপ) | ১০ × ৳১৫ | ৳১৫০ |
| রিটার্ন আর এক্সচেঞ্জের জন্য হাতে রাখা | কয়েকটা পার্সেলের কুরিয়ার চার্জ | ৳৫০০ |
| ফেসবুক পেজ, WhatsApp Business | ফ্রি | ৳০ |
| মোট | ৳৫,১৫০ |
বাজারে যাওয়া-আসার ভাড়া আর বুস্টের টাকা এখানে ধরা হয়নি। প্রথম লট ছোট রাখার কারণ একটাই: কোন ডিজাইন আর কোন সাইজ বেশি চলে, সেটা না জেনে ৫০ পিস কিনলে বাকি ৩০ পিস সিজন শেষে আটকে থাকতে পারে। প্রথম লট বিক্রি হলে যেটা চলেছে সেটাই বেশি করে আনুন।
পাইকারি কাপড় কোথায় পাওয়া যায়?
ঢাকায় অনলাইন সেলারদের কাছে সবচেয়ে পরিচিত দুটো পাইকারি জায়গা:
- ইসলামপুর (পুরান ঢাকা): প্রথম আলোর এপ্রিল ২০২৪-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী এখানে শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রি-পিস, শার্ট-প্যান্ট, পাঞ্জাবি, শিশুদের পোশাক, বিছানার চাদর আর পর্দার কাপড় পাওয়া যায়। থান কাপড় আসে দেশ থেকে আর ভারত-চীন থেকে। বোতাম, চেইনের মতো জিনিসও পাওয়া যায়।
- কেরানীগঞ্জের পোশাকপল্লি: প্রথম আলোর ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে আগানগর, পূর্ব আগানগর, কালীগঞ্জ, খেজুরবাগসহ প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে প্রায় ১৫ হাজার শোরুম আর পাঁচ হাজার কারখানা আছে। পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, শিশুদের পোশাক, প্যান্ট-শার্ট, জিনস আর মেয়েদের ড্রেস পাওয়া যায়।
কোন দিন বন্ধ থাকে? এই প্রশ্নে অনলাইনে একেক সাইট একেক দিন বলে। কোথাও লেখা ইসলামপুর শুক্রবার বন্ধ, কোথাও মঙ্গলবার। আমরা কোনো সরকারি তালিকা পাইনি, তাই নিশ্চিত দিন লিখছি না। প্রথমবার যাওয়ার আগে যে দোকান থেকে কিনবেন তাদের ফোন করে জেনে নিন।
প্রথমবার পাইকারি বাজারে গেলে
- সপ্তাহের মাঝের দিনে সকালে যান। ঈদের আগে ভিড়ে দাম নিয়ে কথা বলার সময় পাবেন না।
- প্রথমে কয়েকটা দোকান ঘুরে দাম আর মান মিলিয়ে নিন, তারপর কিনুন।
- সর্বনিম্ন কত পিস নিতে হয় জিজ্ঞেস করুন। অনেক দোকান ডজন বা লট হিসেবে বিক্রি করে।
- ত্রুটি থাকলে বদলে দেবে কিনা আগেই জিজ্ঞেস করুন, আর মেমো নিন।
- দোকানের কার্ড বা নম্বর রাখুন। পরের বার ফোনে অর্ডার দিয়ে কুরিয়ারে আনাতে পারবেন।
ঢাকার বাইরে থাকলে ফেসবুকের পাইকারি গ্রুপ থেকেও কেনা যায়। সেখানে প্রথমবার পুরো টাকা অগ্রিম দেবেন না। ছোট একটা অর্ডার দিয়ে মান আর বিশ্বাস দুটোই যাচাই করুন।
কোন কাপড় দিয়ে শুরু করবেন?
নতুনদের জন্য ভালো কাপড়ের কয়েকটা লক্ষণ:
- সাইজের ঝামেলা কম। আনস্টিচড থ্রি-পিস, শাড়ি, ওড়না বা ফ্রি-সাইজ কাপড়ে ভুল সাইজের রিটার্ন নেই বললেই চলে। সাইজওয়ালা জামা দিয়ে শুরু করলে প্রথমে দুই-তিনটা সাইজ রাখুন।
- এক ধরনের কাস্টমার। "মেয়েদের অফিসের কুর্তি" বা "বাচ্চাদের ঈদের জামা" এমন একটা দিক ঠিক করলে পোস্ট আর বিজ্ঞাপন দুটোই সহজ হয়।
- হালকা। ভাঁজ করা একটা কুর্তি বা টি-শার্ট সাধারণত প্যাকেটসহ ০.৫ কেজির নিচে থাকে, তাই কুরিয়ারের সবচেয়ে কম চার্জে যায়। জিনস বা শীতের ভারী কাপড়ে ওজন বেশি হতে পারে, একটা প্যাকেট ওজন করে দেখুন।
- সিজনের আগে কেনা। ঈদ আর শীতের আগে চাহিদা বাড়ে। প্রথম আলোর কেরানীগঞ্জ প্রতিবেদনেও ঈদের আগে পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস আর শিশুদের পোশাকের চাহিদা বেশি থাকার কথা আছে। সিজনের শেষে কিনলে অবিক্রিত স্টকে আটকে যাবেন।
সাইজ চার্ট আর এক্সচেঞ্জ পলিসি কিভাবে বানাবেন?
কাপড়ের অনলাইন ব্যবসায় সবচেয়ে বেশি টাকা নষ্ট হয় ভুল সাইজে। কাস্টমার হাতে পেয়ে দেখেন গায়ে হয় না, পার্সেল ফেরত যায়, আপনার দুই দিকের কুরিয়ার চার্জ যায়। এটা কমানোর উপায় একটা ঠিকঠাক সাইজ চার্ট।
নিজের কাপড় মেপে সাইজ চার্ট বানান
- প্রতিটা সাইজের একটা পিস টেবিলে সমান করে বিছান।
- ফিতা দিয়ে ইঞ্চিতে মাপুন: বুক (এক বগল থেকে আরেক বগল, তারপর দুই দিয়ে গুণ), লম্বা (কাঁধ থেকে নিচ পর্যন্ত), কাঁধ, হাতা। প্যান্ট হলে কোমর আর লম্বা।
- সাপ্লায়ারের দেওয়া সাইজ চার্টে ভরসা করবেন না, নিজে মাপুন। একই "L" দুই দোকানে আলাদা হয়।
- চার্টটা একটা ছবি বানিয়ে প্রতিটা পোস্টে আর প্রোডাক্টের ছবির সাথে দিন।
| সাইজ | বুক (ইঞ্চি) | লম্বা (ইঞ্চি) | কাঁধ (ইঞ্চি) |
|---|---|---|---|
| M | [..] | [..] | [..] |
| L | [..] | [..] | [..] |
| XL | [..] | [..] | [..] |
অর্ডার কনফার্ম করার সময় একটা প্রশ্ন যোগ করুন: "আপনার বুকের মাপ কত, বা সাধারণত কোন সাইজ পরেন?" এতে অনেক ভুল সাইজ পার্সেল যাওয়ার আগেই ধরা পড়ে।
দুই লাইনের এক্সচেঞ্জ পলিসি
নিচের লেখাটা কপি করে দিনের সংখ্যা আর শর্ত নিজের মতো বদলে নিন:
এক্সচেঞ্জ: সাইজ না মিললে পণ্য হাতে পাওয়ার ৩ দিনের মধ্যে জানান। কাপড় না ধোয়া আর ট্যাগসহ থাকতে হবে, এক্সচেঞ্জের ডেলিভারি চার্জ আপনার। ত্রুটি থাকলে: ছবি পাঠান, আমরা নিজের খরচে বদলে দেবো।
এক্সচেঞ্জেরও খরচ আছে। নতুন পিস পাঠাতে আরেকবার ডেলিভারি চার্জ লাগে, আর পাঠাওয়ের রেট পেজ অনুযায়ী ঢাকা মেট্রোতে সাধারণ রিটার্নে চার্জ না থাকলেও এক্সচেঞ্জ আর আংশিক ডেলিভারিতে রিটার্ন চার্জ লাগে। তাই এক্সচেঞ্জের চার্জ কে দেবে, সেটা পলিসিতে আগেই লিখে রাখুন।
অনলাইন স্টোরে সাইজ কিভাবে দেখাবেন
ফেসবুক পোস্টে প্রতিটা সাইজের দাম আর স্টক লেখা কঠিন, আর কাস্টমার ঠিকই ইনবক্সে জিজ্ঞেস করেন। Kommercly-তে (যেটা আমরা বানাই) একটা প্রোডাক্টে সাইজ যোগ করা যায়, আর প্রতিটা সাইজের আলাদা দাম দেওয়া যায় (যেমন XL-এর দাম বেশি)। কোনো সাইজ শেষ হলে সেটা Sold out করে রাখা যায়, আর অর্ডার নিয়ে বানানো কাপড়ে Pre-order বেছে নিলে অর্ডারে PREORDER লেখা আসে। ডেলিভারি এলাকা অনুযায়ী চার্জ কাস্টমার অর্ডারের আগেই দেখেন, আর অর্ডার সাইজসহ আপনার WhatsApp-এ আসে। ফ্রি প্ল্যানে কমিশন ০%, ৩০টা পর্যন্ত প্রোডাক্ট। ফোন থেকে কিভাবে সেটআপ করবেন তা স্টোর সেটআপ গাইডে আছে।
তবে আপনি যদি মাপ নিয়ে দর্জির কাজ করেন, যেখানে প্রতিটা অর্ডার আলাদা মাপে বানানো হয়, তাহলে স্টোর আপনার কাজে কম লাগবে। সেখানে Messenger বা WhatsApp-এ কথা বলে মাপ নেওয়াই ভালো, সাথে একটা মাপের ফর্ম।
প্রতিটা সাইজের স্টক গুগল শীটে কিভাবে রাখবেন, ফর্মুলাসহ সেটা আছে গুগল শীটে স্টক হিসাবের গাইডে (ইংরেজিতে)।
কাপড়ের ছবি কিভাবে তুলবেন যাতে রিটার্ন কমে?
"ছবির সাথে মিলে না" কাপড়ের দ্বিতীয় বড় রিটার্নের কারণ। ছবি সুন্দর করার চেয়ে সত্যি করা বেশি জরুরি।
- দিনের আলোয়, জানালার পাশে তুলুন। সরাসরি রোদ বা টিউবলাইটের নিচে রং বদলে যায়।
- ফিল্টার আর বিউটি মোড বন্ধ রাখুন। মেরুন যেন লাল না দেখায়।
- একটা ছবি সাদা কাগজের পাশে রাখুন। কাস্টমার আসল রং আন্দাজ করতে পারেন।
- কাপড়ের কাছ থেকে একটা ছবি দিন। সুতা, প্রিন্ট আর কাজ যেন বোঝা যায়।
- গায়ে বা হ্যাঙ্গারে একটা ছবি দিন, সাইজ লিখে। "মডেলের পরনে M, উচ্চতা ৫ ফুট ৪" এমন লাইন অনেক প্রশ্ন কমায়।
- সাপ্লায়ারের ছবি ব্যবহার করলে নিজের পিসেরও একটা ছবি দিন। কাস্টমার যা পাবেন, সেটাই দেখান।
জানালার আলো আর সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে ফোনে ছবি তোলার পুরো সেটআপ আছে ফোনে প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফির গাইডে (ইংরেজিতে)।
কুরিয়ার আর রিটার্ন ধরে দাম কিভাবে ঠিক করবেন?
উদাহরণ: একটা কুর্তি ৳৪৫০-এ কিনলেন, বিক্রি করবেন ৳৮৫০-এ। প্যাকেটসহ ওজন ০.৫ কেজির নিচে। কুরিয়ার স্টেডফাস্ট। কাস্টমার থেকে ডেলিভারি চার্জ নিচ্ছেন ঢাকার ভেতরে ৳৮০, বাইরে ৳১৩০। ধরুন ১০টা পার্সেলে ১টা ফেরত আসে।
| হিসাব (উদাহরণ) | ঢাকার ভেতরে | ঢাকার বাইরে |
|---|---|---|
| কাস্টমার দিলো (দাম + ডেলিভারি) | ৳৯৩০ | ৳৯৮০ |
| স্টেডফাস্ট ডেলিভারি চার্জ (০.৫ কেজি) | ৳৬৫ | ৳১১৫ |
| COD চার্জ (ডেলিভারি চার্জ বাদে বাকি টাকার ১%) | ৳৯ | ৳৯ |
| আপনার হাতে এলো | ৳৮৫৬ | ৳৮৫৬ |
| কেনা দাম | ৳৪৫০ | ৳৪৫০ |
| প্যাকেট | ৳১৫ | ৳১৫ |
| রিটার্নের ভাগ (১টা ফেরতের চার্জ ৯টা ডেলিভারিতে ভাগ) | ৳৭ | ৳১৩ |
| প্রতি ডেলিভারিতে লাভ | ৳৩৮৪ | ৳৩৭৮ |
এখানে ফেরতের খরচ শুধু যাওয়ার চার্জ ধরা হয়েছে, কারণ স্টেডফাস্টের শর্তাবলিতে লেখা তারা রিটার্ন পার্সেলে চার্জ নেয় না। তবে ২ অক্টোবর ২০২৬-এ তাদের বিজনেস পেজে লেখা ছিল রিটার্ন চার্জ আলাদা লাগবে, তাই নিজের মার্চেন্ট প্যানেলে দেখে নিন। পাঠাও দিয়ে পাঠালে ঢাকার বাইরে রিটার্নে ডেলিভারি চার্জের ৫০% যোগ হয়, তখন রিটার্নের ভাগ বাড়বে। বিজ্ঞাপনে টাকা খরচ করলে সেটাও প্রতি অর্ডারে ভাগ করে বাদ দিন। তিনটা কুরিয়ারের পুরো রেট আর রিটার্নের হিসাব আছে কুরিয়ার চার্জের তুলনায় (ইংরেজিতে)।
ঢাকার বাইরের অর্ডারে ডেলিভারি চার্জ আগে বিকাশ বা নগদে নিলে ফেক অর্ডার কমে। কিভাবে চাইবেন, সেটা আছে COD বনাম বিকাশ অ্যাডভান্স লেখায় (ইংরেজিতে)।
কাপড়ের ব্যবসায় লাভ কেমন?
কেউ যদি বলে "কাপড়ে ৫০% লাভ" বা "মাসে এত হাজার", বিশ্বাস করবেন না। লাভ নির্ভর করে আপনার কেনা দাম, বিক্রির দাম আর কয়টা পার্সেল ফেরত আসে তার ওপর। ওপরের উদাহরণে প্রতি ডেলিভারিতে প্রায় ৳৩৮০ থাকে, বিজ্ঞাপনের খরচ ধরার আগে। মাস শেষে আসল লাভ কমায় এই চারটা জিনিস:
- রিটার্ন। ১০টায় ১টার জায়গায় ১০টায় ৩টা ফেরত এলে রিটার্নের ভাগ তিন গুণের বেশি হয়।
- এক্সচেঞ্জ। প্রতিটা এক্সচেঞ্জে আরেকবার কুরিয়ার চার্জ।
- অবিক্রিত স্টক। সিজন শেষে যে কাপড় পড়ে থাকে, সেটা কম দামে ছাড়তে হয়।
- বিজ্ঞাপন। বুস্টে কত টাকা গেল আর কয়টা অর্ডার এলো, দুটো একসাথে লিখে রাখুন।
প্রতি সপ্তাহে একটা খাতায় বা গুগল শীটে চারটা সংখ্যা লিখুন: অর্ডার, ডেলিভারি, রিটার্ন আর বিজ্ঞাপনের খরচ। তিন-চার সপ্তাহ পর বুঝবেন কোন ডিজাইন আর কোন এলাকা থেকে আসল লাভ আসে।
পেজের নাম এখনো ঠিক না হলে দেখুন অনলাইন ব্যবসার নামের তালিকা। সেখানে কাপড়ের দোকানের নামও আছে।
সংক্ষেপে প্রশ্ন-উত্তর
অনলাইনে কাপড়ের ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে?
ছোট করে শুরু করলে মূল খরচ হলো প্রথম লটের কাপড়। আমাদের উদাহরণে ১০ পিস কুর্তি, প্রতি পিস ৳৪৫০ ধরে, সাথে প্যাকেট আর রিটার্নের জন্য কিছু টাকা রেখে মোট প্রায় ৳৫,১৫০। ফেসবুক পেজ খুলতে টাকা লাগে না। আসল দাম আপনার বাজার আর কাপড়ের মান অনুযায়ী আলাদা হবে, তাই নিজের কেনা দাম বসিয়ে হিসাব করুন।
পাইকারি কাপড় কোথায় পাওয়া যায়?
ঢাকায় সবচেয়ে পরিচিত দুটো জায়গা পুরান ঢাকার ইসলামপুর আর কেরানীগঞ্জের পোশাকপল্লি। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী ইসলামপুরে শাড়ি, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, শিশুদের পোশাক আর থান কাপড় পাওয়া যায়। কেরানীগঞ্জে পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, জিনস, শার্ট আর শিশুদের পোশাক। সাপ্তাহিক বন্ধের দিন নিয়ে অনলাইনে তথ্য মেলে না, তাই যাওয়ার আগে দোকানে ফোন করুন।
কাপড়ের ব্যবসায় রিটার্ন কেন বেশি হয়?
কাপড়ে সবচেয়ে বড় কারণ সাইজ না মেলা আর ছবির সাথে রং না মেলা। প্রতিটা প্রোডাক্টে ইঞ্চিতে মাপসহ সাইজ চার্ট দিন, দিনের আলোতে ফিল্টার ছাড়া ছবি তুলুন, আর অর্ডার কনফার্ম করার সময় সাইজটা আবার জিজ্ঞেস করুন। আনস্টিচড থ্রি-পিস বা শাড়ি দিয়ে শুরু করলে সাইজের ঝামেলা থাকে না বললেই চলে।
কাপড়ের এক্সচেঞ্জ পলিসি কেমন হওয়া উচিত?
ছোট আর পরিষ্কার। যেমন: সাইজ না মিললে পণ্য হাতে পাওয়ার ৩ দিনের মধ্যে জানাতে হবে, কাপড় না ধোয়া আর ট্যাগসহ থাকতে হবে, আর এক্সচেঞ্জের ডেলিভারি চার্জ কাস্টমার দেবেন। ত্রুটি থাকলে খরচ আপনার। পলিসিটা পোস্টে, পেজের তথ্যে আর অর্ডার কনফার্মের মেসেজে একই ভাষায় লিখুন।
কাপড়ের ব্যবসায় লাভ কেমন?
নির্দিষ্ট কোনো হার বলা যায় না। আমাদের উদাহরণে ৳৪৫০-এ কেনা কুর্তি ৳৮৫০-এ বিক্রি করে, কুরিয়ার, COD চার্জ, প্যাকেট আর রিটার্নের খরচ বাদ দিয়ে প্রতি ডেলিভারিতে প্রায় ৳৩৮০ থাকে, বিজ্ঞাপনের খরচ ধরার আগে। রিটার্ন, এক্সচেঞ্জ আর সিজন শেষে না বিক্রি হওয়া স্টক এই লাভ সবচেয়ে বেশি কমায়।
সাইজ আর দামসহ কাপড়গুলো এক লিংকে দেখাতে চাইলে ফোন থেকেই ফ্রি স্টোর বানান, তারপর সাইজসহ প্রোডাক্ট দিন।
সূত্র: প্রথম আলো, "ইসলামপুরের পাইকারি ব্যবসা পুরো জমেনি" (৬ এপ্রিল ২০২৪) আর কেরানীগঞ্জের পোশাকপল্লি নিয়ে প্রতিবেদন (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), দুটোই ২ অক্টোবর ২০২৬-এ দেখা। কুরিয়ার চার্জ আর রিটার্নের নিয়ম স্টেডফাস্টের রেট ক্যালকুলেটর, শর্তাবলি আর বিজনেস পেজ, আর পাঠাওয়ের রেট পেজ থেকে, ২ অক্টোবর ২০২৬-এ দেখা।
ফোন থেকেই অনলাইন স্টোর, অর্ডার আসবে WhatsApp-এ
ফ্রি প্ল্যান, কোনো কার্ড বা কোডিং লাগবে না। ফোনে ছবি তুলে প্রথম প্রোডাক্ট যোগ করুন।
ফ্রি স্টোর বানানKommercly দিয়ে বানানো লাইভ স্টোর দেখুন:Dobby (opens in a new tab)Stellify (opens in a new tab)
